ছোট বাচ্চাদের নিয়ে পারিবারিক আনন্দময় ভ্রমণ এর সেরা ১২টি টিপস
ছোট বাচ্চাদের নিয়ে পারিবারিক আনন্দময় ভ্রমণ এর সেরা টিপস ও কৌশল সম্পর্কে
আপনি জানতে চাচ্ছেন? আমার এই নির্দেশিকাটি আপনার জন্য উপযুক্ত। আমারে প্রবন্ধে
আপনি পাবেন ছোট বাচ্চাদের নিয়ে পারিবারিক আনন্দময় ভ্রমণ এর সেরা ১২টি কার্যকরী
টিপস ও কৌশল।
আপনার পরিবার নিয়ে ভ্রমণকে আনন্দময় করতে সব রকমের পরিকল্পনা, নিরাপত্তা, যাত্রা বিরতির বাসস্থান, বিনোদনসহ ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। যাতে আপনি ছোট বাচ্চাদের নিয়ে পারিবারিক ভ্রমণ করতে পারেন।
পোস্ট সুচী পত্রঃ ছোট বাচ্চাদের নিয়ে পারিবারিক আনন্দময় ভ্রমণ
- ছোট বাচ্চাদের নিয়ে পারিবারিক আনন্দময় ভ্রমণ কেন করবেন
- ভ্রমণের আগে বাচ্চাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিভাবে প্রস্তুত করবেন
- ভ্রমণের নিরাপদ ও আরামদায়ক যানবাহন বেছে নেওয়ার পদ্ধতি
- বাচ্চাদের বয়স অনুপাতে ভ্রমণ পরিকল্পনা তৈরি করার নিয়ম
- ভ্রমণস্থলের আবহাওয়া ও পরিবেশ সম্পর্কে কিভাবে জানবেন
- দীর্ঘ যাত্রায় বাচ্চাদের বিনোদনের ব্যবস্থা রাখার উপায়
- দীর্ঘ যাত্রায় বাচ্চাদের স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করার উপায়
- ভ্রমণের সময় বাচ্চাদের সুরক্ষা রাখার উপায়
- ভ্রমণের সময় প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রী রাখার নিয়ম
- বাচ্চাদের আগ্রহ অনুযায়ী ভ্রমণ গন্তব্য নির্বাচন করার পদ্ধতি
- ভ্রমণে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার নিয়ম
- ভ্রমণের স্মৃতি ধরে রাখার উপায়
- ছোট বাচ্চাদের নিয়ে পারিবারিক আনন্দময় ভ্রমণ-শেষ কথা
ছোট বাচ্চাদের নিয়ে পারিবারিক আনন্দময় ভ্রমণ কেন করবেন
ছোট বাচ্চাদের নিয়ে পারিবারিক আনন্দময় ভ্রমণ করা অত্যন্ত
জরুরি। কেননা এই ভ্রমণের দ্বারা বাচ্চাদের মানসিক বিকাশ
ঘটে। প্রতিবছর বিশেষ করে বসন্ত মৌসুমে পরিবারসহ বাচ্চাদের নিয়ে একটা
নির্দিষ্ট জায়গায় বেড়াতে যাওয়া বা ভ্রমণ করা। এই জায়গাটি হতে পারে
কোন আত্মীয়ের বাড়িতে অথবা অন্য যে কোন জায়গায়। তবে জায়গাটি হতে
হবে পুরনো ঐতিহ্য দর্শনীয় স্থান বা প্রাকৃতিক দর্শনীয় স্থান। যেমন
প্রাকৃতিক দর্শনীয় স্থানের মধ্যে রয়েছে বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, তামাবিল,
কক্সবাজার ইত্যাদি স্থান। পুরনো ঐতিহ্যমূলক দর্শনীয় স্থানের মধ্যে যেমন রয়েছে
নাটোরের রাজবাড়ি, লালনের সমাধিস্থল, রবি ঠাকুরের বাড়ি ইত্যাদি স্থান। এসব
স্থান গুলোতে ভ্রমণ করলে একদিকে যেমন বাচ্চাদের জ্ঞান বাড়বে অপরদিকে মানসিক
বিকাশ ঘটবে। সারা বছর এক ঘেয়েমী কাজে ব্যস্ত থাকার ফলে প্রতিটি ব্যক্তির
মানসিক অস্বস্তির উৎপত্তি হয়। আর এই মানসিক অস্বস্তি দূর করতে
বছরে অন্তত একবার শুকনো মৌসুমে অর্থাৎ বসন্ত মৌসুমে পরিবারের ছোট
বাচ্চাসহ দূরে কোথাও ভ্রমণ করার একান্ত দরকার।
ভ্রমণের আগে বাচ্চাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিভাবে প্রস্তুত করবেন
ভ্রমণের পূর্বেই সবচেয়ে জরুরী বিষয় হলো ছোট বাচ্চাদের প্রয়োজনীয়
জিনিসপত্র ঠিকমতো গুছিয়ে নেওয়া। শিশুদের ক্ষেত্রে ডায়াপার, দুধ, খাবার, পোশাক,
টিস্যু, তোমাদের, খেলনা ও ওষুধ-সবকিছু আলাদা ব্যাগে রাখতে হবে যাতে
প্রয়োজনের সময় সহজেই পাওয়া যায়। বিশেষ করে বাচ্চাদের কাপড়, খেলনা,
ওষুধ এবং স্বাস্থ্যবিধির সামগ্রী আলাদা ব্যাগে রাখা উচিত। প্রতিদিনের জন্য
আলাদা সেট কাপড় প্যাক করলে তা আরো সুবিধাজনক হয়। খাবার এবং পানীয়
সামগ্রীর জন্য আলাদা ব্যাগ ব্যবহার করা উচিত।
দীর্ঘ যাত্রায় ছোট বাচ্চাদের ব্যস্ত রাখার জন্য তাদের পছন্দের খেলনা, গল্পের বই
এবং স্কেচবুক সঙ্গে রাখতে হবে। প্রতিটি বাচ্চাদের জন্য একটি ছোট ব্যাগ
তৈরি করতে পারেন, যেখানে তাদের নিজস্ব কিছু জিনিস রাখতে পারে। ফার্স্ট এইড কিট,
যাতে ব্যান্ডেজ, এন্টিসেপটিক ওয়াইপস এবং প্রাথমিক ওষুধ থাকে তা অবশ্যই সাথে
রাখতে হবে। আবহাওয়া পরিবর্তন মাথায় রেখে হালকা জ্যাকেট বা সোয়েটার রাখতে হবে।
সবশেষে একটি চেক লিষ্ট তৈরি করতে হবে যাতে কোনো কিছু ভুলে না যায়।হালকা প্যাকিং
ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে আরো আনন্দময় করে তোলে।
ভ্রমণের নিরাপদ ও আরামদায়ক যানবাহন বেছে নেওয়ার পদ্ধতি
ভ্রমণ নিরাপদ ও আরামদায়ক রাখতে যানবাহন বেছে নেওয়ার পদ্ধতিটি খুবই
গুরুত্বপূর্ণ। ভ্রমণ শুরু করার পূর্বেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যানবাহন কি
ধরনের হতে হবে। যেহেতু ছোট বাচ্চাদের নিয়ে ভ্রমণ অতএব ভালো যানবাহন
ব্যবস্থা রাখা জরুরি। যাতায়াতের জন্য বাস, প্রাইভেট কার অথবা ট্রেন বেছে
নেওয়া যেতে পারে। তবে গাড়িটি যেন প্রশস্ত হয় এবং সিটবেল্ট থাকে তা
নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে গাড়িতে বেবি সিট ব্যবহার করা আরো নিরাপদ। অধিক
অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব প্রাইভেট কার
থাকে। সেক্ষেত্রে তাদের বিষয়টি আলাদা। কিন্তু মধ্যবিত্ত
পরিবারদের সাধারণত প্রাইভেট কার থাকে না।
সে ক্ষেত্রে ভাড়া প্রাইভেট কার নেওয়া যেতে পারে। অথবা বাস বা ট্রেনে ভ্রমণ
করা যেতে পারে। ট্রেনে ভ্রমণ করলে সাধারণত অসুবিধা হয় না। কেননা
ট্রেনের মধ্যে টয়লেটের ভালো ব্যবস্থাপনা থাকে এবং প্রয়োজনীয় পানির
ব্যবস্থাও থাকে। ট্রেনের মধ্যে দীর্ঘ সময় বসে থাকার ক্লান্তি দূর করতে
প্রয়োজনে ট্রেনের মধ্যে হাটাহাটি করার সুযোগ থাকে। যাহা বাসের মধ্যে থাকে
না। যদি বাসে ভ্রমণ করার সিদ্ধান্ত হয়, তাহলে এমন বাস বাছাই করতে হবে, যে
বাসগুলো যাত্রার মাঝে ভালো মানের হোটেলের থামিয়ে প্রয়োজনীয় খাওয়া দাওয়া
এবং রিফ্রেশ হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। ফলে ছোট বাচ্চারা এবং
অভিভাবক দুজনেই সতেজতা অনুভব করে। এবং ভ্রমণের ক্লান্তি অনেকটা দুর
হয়। গাড়ির ভিতরে ঠান্ডা বা গরমের ব্যবস্থা ঠিক আছে কিনা সেটিও খেয়াল
রাখতে হবে। ছোট বাচ্চাদের আরামের জন্য গান, কার্টুন অথবা ছোটখাটো
খেলনার ব্যবস্থা রাখলে যাত্রা পথ আরো আনন্দদায়ক হয়ে উঠবে।
বাচ্চাদের বয়স অনুপাতে ভ্রমণ পরিকল্পনা তৈরি করার নিয়ম
ভ্রমণ আনন্দদায়ক হলেও এর মধ্যে অনেক কষ্ট আছে। এজন্য আমাদের বয়স অনুপাতে
ভ্রমণে পরিকল্পনা করতে হবে। যেহেতু ছোট বাচ্চাদের নিয়ে ভ্রমণ
পরিকল্পনা সেক্ষেত্রে খুব ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কেননা
বাচ্চাদের বয়স ভেদে তাদের প্রয়োজন এবং মানসিকতা আলাদা হয়ে থাকে। ছোট্ট
বাচ্চাদের জন্য সংক্ষিপ্ত ভ্রমণই উপযুক্ত, আর একটু বড় বাচ্চাদের জন্য
দীর্ঘ ভ্রমণ পরিকল্পনা করা যায়। বয়স অনুযায়ী খেলার জায়গা, খাবার এবং
বিশ্রামের পরিকল্পনা রাখা ভ্রমণকে আনন্দময় করে তোলে। স্কুল পড়ুয়া
বাচ্চাদের জন্য শিক্ষামূলক ভ্রমণ করার পরিকল্পনা করতে হবে। সেক্ষেত্রে
চিড়িয়াখানা, মিউজিয়াম অথবা ঐতিহাসিক স্থান নির্বাচন করা ভালো। আবার ছোট
বাচ্চাদের জন্য পার্ক, সমুদ্র সৈকত বা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সম্বলিত গ্রাম
ভ্রমণ বাচ্চাদের মানসিক বিকাশ ঘটায়। বাচ্চারা যাতে দীর্ঘ
ভ্রমণে বিরক্ত বা অস্বস্থিবোধ না করে সেজন্য বয়স অনুযায়ী বিনোদনের
ব্যবস্থা রাখতে হবে। অতএব বলা যায় যে, সঠিক ভ্রমণ পরিকল্পনা থাকলে শিশুরা
ভ্রমণ উপভোগ করবে এবং পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিন্তে থাকতে পারবে।
ভ্রমণস্থলের আবহাওয়া ও পরিবেশ সম্পর্কে কিভাবে জানবেন
ভ্রমণস্থলের আবহাওয়া ও পরিবেশ সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরী ।
ভ্রমণস্থলের আবহাওয়া ও পরিবেশ সম্পর্কে যদি না জানা থাকে
তাহলে ভ্রমণ আনন্দময় হওয়ার পরিবর্তে বিষাদে রূপান্তরিত হবে।
বর্তমান আধুনিক যুগে বিভিন্ন অ্যাপস এর মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন জায়গার আবহাওয়া
ও পরিবেশ সম্পর্কে আগে থেকে জানতে পারি। আবহাওয়া ও পরিবেশ সম্পর্কে জানা থাকলে
তাহলে উক্ত জায়গায় ভ্রমণের জন্য কি ধরনের পোশাক নিতে হবে, কেমন ধরনের খাবার
সঙ্গে নিতে হবে ইত্যাদি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।
যেমন পাহাড়ি এলাকায় গেলে ঠান্ডা বেশি হতে পারে, তাই ছোট বাচ্চাদের
জন্য জ্যাকেট ও মাফলার সঙ্গে নিতে হবে। সমুদ্র এলাকায় ভ্রমণ করলে সানস্ক্রিন,
হ্যাট এবং হালকা জামাকাপড় নিতে হবে। আমরা ছোট বাচ্চাদের নিয়ে যেখানে ভ্রমণ
করব সেখানে খেলার মাঠ, পার্ক বা ছোট বাচ্চাদের জন্য নিরাপদ জায়গা আছে কিনা আগে
থেকে জেনে প্রস্তুতি নিলে ভ্রমণ আরামদায়ক হয় এবং হঠাৎ কোন সমস্যায় পড়তে হয়
না। অতএব ভ্রমণস্থলের আবহাওয়া ও পরিবেশ সম্পর্কে পূর্ব থেকেই বিস্তারিত
জেনে নিয়ে ভ্রমণ পরিকল্পনা করলে ছোট বাচ্চাদের নিয়ে পারিবারিক আনন্দময়
ভ্রমণটি সাফল্যমন্ডিত হবে।
দীর্ঘ যাত্রায় বাচ্চাদের বিনোদনের ব্যবস্থা রাখার উপায়
ভ্রমণ আনন্দদায়ক হলেও বাস্তবিক অর্থে এর মধ্যে কষ্ট লুকায়িত
আছে। আমাদের ইসলাম ধর্মীয় পরিভাষায় ভ্রমণকে জাহান্নামের একটি অংশের সাথে
তুলনা করা হয়েছে। এ কথার দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, ভ্রমণ আনন্দদায়ক হলেও
এর মধ্যে কষ্ট লুকায়িত আছে। যেহেতু বাচ্চাদের নিয়ে ভ্রমণ সেহেতু এই
ভ্রমণের মধ্যে বিনোদনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। দীর্ঘ ভ্রমণে ছোট বাচ্চারা বিরক্ত
হবে-এটাই স্বাভাবিক এইজন্য ভ্রমণের সময় বিনোদনের ব্যবস্থা রেখে এই
বিরক্তিকে আনন্দে রূপান্তরিত করতে হবে। ভ্রমণের এই বিরক্তিকে আনন্দ
রূপান্তরিত করতে হলে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে। যদি গাড়ি বা ট্রেনে
ভ্রমণ হয় তাহলে মোবাইল বা ট্যাবলেটে বাচ্চাদের কার্টুন বা শিক্ষামূলক ভিডিও
দেখানো যেতে পারে।
আরো পড়ুনঃ
ঘরে থেকে শরীর ফিট রাখার উপায়
অথবা বাচ্চাদের প্রিয় খেলনা, রঙিন বই, পাজল বা আঁকার খাতা দেওয়া
যেতে পারে। এই প্রিয় খেলনা বা আঁকার খাতার মাধ্যমে মনোযোগ অন্যদিকে
সরিয়ে ভ্রমণকে আনন্দময় করে তুলবে। অথবা পরিবারের সকল সদস্য একসঙ্গে গল্প
বলা বা গান গাওয়া যাইতে পারে। বাচ্চাদের ভ্রমণের সময় বিভিন্ন গেম যেমন ”আই
স্পাই” বা “কার নাম্বার গেম” খেলানো যেতে পারে। অথবা গল্পের বই পড়তে
উৎসাহিত করা যেতে পারে। অথবা ভ্রমণের স্থানীয় সাংস্কৃতি সম্পর্কে তাদের ছবি বা
ভিডিও দেখানো যেতে পারে। অথবা তাদের সাথে ছবি তুলতে পারেন এবং মজার মুহুর্তগুলো
ভিডিও করতে পারেন। ভ্রমণের সময় এই ছোট ছোট টিপস গুলো ভ্রমণের আনন্দকে
মধুময় করে তোলে।
দীর্ঘ যাত্রায় বাচ্চাদের স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করার উপায়
দীর্ঘ যাত্রায় বাচ্চাদের স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করা একান্ত
প্রয়োজন। ভ্রমণের সময় বাচ্চাদের জন্য খাবার নিয়ে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জের
সম্মুখীন হতে হয়।স্বাস্থ্যকর ও নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করতে না পারলে অসুস্থ
হয়ে পড়বে, বিধায় ভ্রমণ হবে বেদনাময়। পুষ্টিকর এবং সহজ পাচ্য খাবার বেছে
নিতে হবে। বাইরের ভাজাপোড়া বা তৈলাক্ত জাতীয় খাবার পরিহার করে চলুন।
হালকা খাবার বা স্ন্যকস্ যেমন ফল, বাদাম, বিস্কিট বা গ্রানোলা বার সাথে রাখুন।
প্রয়োজনীয় পরিমাণে পানি পান করা নিশ্চিত করতে হবে। ভ্রমণের সময় রেস্টুরেন্টে
গেলে বাচ্চাদের জন্য বিকল্প, যেমন-স্যুপ, সালাদ বা গ্রিলড চিকেন বেছে
নিতে হবে। বাইরে থেকে কোন খাবার কিনতে হলে অবশ্যই পরিচ্ছন্ন জায়গা থেকে কিনে
নিতে হবে। ভ্রমণের সময় বোতলজাত পানি করা জরুরী। কারণ অস্বাস্থ্যকর
পানি পেটে সমস্যা তৈরি করতে পারে। খুব ঝাল বা তেলযুক্ত খাবারগুলো পরিহার
করে চলুন। বয়স অনুযায়ী বাচ্চাদের খাবার পরিকল্পনা করলে ভ্রমণে তারা
সুস্থ থাকবে এবং ভ্রমণ সুন্দরভাবে উপভোগ করবে।
ভ্রমণের সময় বাচ্চাদের সুরক্ষা রাখার উপায়
ভ্রমণের সময় বাচ্চাদের সুরক্ষা রাখার যতগুলো উপায় আছে সেগুলো বিস্তারিত
জানতে হবে। বিশেষ করে ভীড়ের সময় বাচ্চাদের হাত শক্তভাবে ধরে রাখতে হবে, যাতে
বিচ্ছিন্ন না হয়ে যায়। বাচ্চারা যাতে সহজেই হারিয়ে যেতে না
পারে, তাই তাদের গলায় পরিচয় পত্র বা কন্টাক্ট নাম্বার ঝুলিয়ে দেওয়া
বুদ্ধিমানের পরিচয়। পাহাড়ি ঝর্ণার ধারে বাচ্চাদের একাকী যেতে
দেওয়া উচিত নয়। গাড়িতে ভ্রমণের সময় অবশ্যই সিটবেল্ট ব্যবহার করা
জরুরী। যদি বাচ্চারা হারিয়ে যায় সে ক্ষেত্রে কি করতে হবে তাহা বাচ্চাদের
শিখিয়ে দিন।
অথবা তাদেরকে নিজের নাম, ঠিকানা এবং ফোন নম্বর মুখস্ত করিয়ে দিতে হবে। তাদের
পকেটে বা ব্যাগে আপনার নাম (অর্থাৎ অভিভাবক যিনি), ঠিকানা এবং ফোন নাম্বারসহ
একটি কাগজের স্লিপ রেখে দিন। অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলা, বা তাদের ডাকে
সাড়া দেওয়া অথবা তাদের দেওয়ার কোন প্রকার খাবার গ্রহণ করা থেকে বিরত
থাকার পরামর্শ দিতে হবে। এবং আপনাকেও এ ব্যাপারে যথেষ্ট সতর্ক হতে
হবে।রেস্টুরেন্টে বা শপিং মলে তাদের সবসময় চোখের সামনে রাখুন। ভ্রমণের
সময় যেকোনো প্রকার ঝুঁকিপূর্ণ কার্যকলাপ বা স্থানের কাছেও যাবে
না। ভ্রমণের সময় এই ছোট ছোট টিপস গুলো ছোট বাচ্চাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত
করবে।
ভ্রমণের সময় প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রী রাখার নিয়ম
ভ্রমণের সময় বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে যেতে পারে সেজন্যই প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রী
সঙ্গে রাখা জরুরী। দীর্ঘ যাত্রায় বমি হতে পারে, নতুন পরিবেশে আবহাওয়া
পরিবর্তন জর্নিত কারণে তো জ্বর আসতে পারে, অথবা যেকোনো অপ্রত্যাশিত
স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে। যদি আপনার বাচ্চার দীর্ঘস্থায়ী কোন
রোগ থাকে, ভ্রমণের সময় উক্ত রোগ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। সে
ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখতে হবে।
দীর্ঘ ভ্রমণে অবশ্যই ফাস্ট এইট বক্স সঙ্গে রাখতে হবে।
এই ফাস্ট এই বক্সের মধ্যে জ্বরের ওষুধ, স্যালাইন, ব্যান্ডেজ,
এন্টিসেপটিক ওয়াইপস, বমি রোধক ওষুধ, ব্যথার ওষুধ, এলার্জি বিরোধী ওষুধ,
মশা তাড়ানোর স্প্রে, হ্যান্ড স্যনিটাইজার ইত্যাদি অনেক প্রয়োজনীয় ওষুধ
সাজিয়ে রাখতে হবে। ভ্রমণের সময় নিয়মিত হাত পরিষ্কার রাখার ব্যাপারে
সজাগ থাকতে হবে। হঠাৎ অসুস্থ হলে স্থানীয় ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ
সাপেক্ষে ঔষধ গ্রহণ করা উচিত। বিশেষ করে বাচ্চারা নতুন পরিবেশে গেলে অসুস্থ
হয়ে পড়ে, এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। বরং শান্তভাবে প্রয়োজনীয়
ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কোন কিছু খাওয়ার আগে তার প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ
করে নিন। ঠান্ডা বা সর্দির জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধও রাখতে পারেন। এই
সকল ছোট ছোট প্রস্তুতি গুলো বড় বিপদ থেকে রক্ষা হয়।
বাচ্চাদের আগ্রহ অনুযায়ী ভ্রমণ গন্তব্য নির্বাচন করার পদ্ধতি
বাচ্চারা সাধারণত যেখানে ভ্রমণ করতে আনন্দ পায় সেই সমস্ত ভ্রমণ স্থান নির্ধারণ
করা উচিত। ফলশ্রুতিতে বাচ্চারা দুজন আনন্দ প্রাপ্ত হবে এবং মানসিক বিকাশ
ফলপ্রসু হবে। তাই ভ্রমণ গন্তব্য ঠিক করার আগেই বাচ্চাদের মতামতকে
প্রাধান্য দেওয়া। বাচ্চারা যাতে নতুন কিছু শিখতে পারে এমন জায়গা সমূহ
ভ্রমণের জন্য বেছে নেওয়া উচিত। প্রটোত তারা শুধু বিনোদনই পাবে
না, বরং জ্ঞানও বাড়বে।বাচ্চারা সাধারণত চিড়িয়াখানা, সমুদ্র সৈকত,
বিনোদন পার্ক, মিউজিয়াম বা গ্রাম ভ্রমণ করতে পছন্দ করে। বাচ্চাদের আগ্রা
অনুযায়ী ভ্রমণ স্থান নির্বাচন করলে তারা সন্তুষ্ট হয় এবং পরিবারও আনন্দময়
সময় কাটাতে সক্ষম হয়।
ভ্রমণে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার নিয়ম
ভ্রমণের সময় পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে কাজের দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হবে। কার
ওপর কোন দায়িত্ব থাকবে এগুলো ভ্রমণের পূর্বেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যেমন
কারো দায়িত্ব থাকবে খাবারের ব্যবস্থাপনায়, কারো দায়িত্ব থাকবে
বাচ্চাদের প্রতি খেয়াল রাখার, আবার কারো দায়িত্ব থাকবে যাতায়াতের
বিষয়গুলো দেখাশুনা করার, কারো দায়িত্ব থাকবে যাত্রা বিরতির সময় হোটেল
ব্যবস্থাপনায় ইত্যাদি। প্রতিটি সদস্যের প্রতি এই দায়িত্ব গুলো ভাগ করা
থাকলে ভ্রমণ পরিচালনা সহজ হয়, চাপ কমে যায় এবং ভ্রমণও আনন্দময়
হয়। বিশেষ করে বাচ্চাদের খাওয়ানো, বিশ্রাম দেওয়া ও বিনোদনের দায়িত্ব
আলাদা করে ভাগ করা উচিত। একজনের উপর সব দায়িত্ব থাকলে সে ক্লান্ত হয়ে
পড়বে। ফলে ভ্রমণ বিষাদে রূপান্তরিত হবে। পারিবারিক এই ভ্রমনকে আনন্দময়
করতে হলে সবাইকে দায়িত্ব সঠিকভাবে ভাগ করে নিয়ে পালন করতে হবে।
ভ্রমণের স্মৃতি ধরে রাখার উপায়
পারিবারিক এই ভ্রমণের স্মৃতি ধরে রাখা ভালো। বিভিন্নভাবে স্মৃতি ধরে রাখা যেতে
পারে যেমনঃ ছবি তোলা, ভিডিও করা বা ছোট ছোট নোট লেখা। আবার
বাচ্চাদের ভ্রমণ স্থলের ছবি আঁকতে দেওয়া যেতে পারে-- তারা ভ্রমণ স্থলের
ছবি আঁকিয়ে স্মৃতিসমূহ ধরে রাখবে। ফলে ভ্রমণ আনন্দময় হবে এবং ভ্রমণের
স্মৃতিগুলো স্থায়ী হবে। পরিবার মিলে খেলাধুলা বা ছোট প্রতিযোগিতার আয়োজন করা
যেতে পারে। পরবর্তীতে ভ্রমণ শেষে এই ছবি বা ভিডিও দেখে বাচ্চারা আনন্দ
পাবে। এইভাবে ভ্রমণের স্মৃতি ধরে রাখলে বাচ্চাদের জীবনে এক অনন্য অভিজ্ঞতা
তৈরি হবে।
ছোট বাচ্চাদের নিয়ে পারিবারিক আনন্দময় ভ্রমণ-শেষ কথা
ছোট বাচ্চাদের নিয়ে পরিবারের এই ভ্রমণ যেমন আনন্দের, তেমনি
চ্যালেঞ্জিং। তবে ছোট বাচ্চাদের নিয়ে ভ্রমন করার অভিজ্ঞতা সবসময় ভিন্ন
রকম হয়। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় দেখেছি, বাচ্চারা যখন ভ্রমণে নিরাপদ ও স্বস্থিবোধ করে, তখন তাদের হাসিখুশি পরিবেশ পরিবারকেও আরো আনন্দময় করে
তোলে। এজন্য আমার অভিভাবকদের প্রতি পরামর্শ এই যে-ভ্রমণের আনন্দ যেমন
গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি বাচ্চাদের নিরাপত্তাকেও প্রাধান্য দিন। তাহলেই
পারিবারিক এই ভ্রমণ আনন্দময় ও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
নাহার অর্গানিকের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url